স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারন

বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন একজন চিকিৎসক। আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক এবং সংখ্যাটি দিন দিন বাড়ছে।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এই মহামারী মোকাবেলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন–বিএমএর হিসাবে রোববার পর্যন্ত ১০৪ জন চিকিৎসক এবং নার্সসহ ১২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন-এমন প্রশ্নে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।
“আমরা ট্রেসিং করছি। তথ্য নিচ্ছি, একেকটা কেইস আসলে একেক রকম। কারও বোঝা যাচ্ছে, কারও বোঝা যাচ্ছে না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ঢাকা থেকে যাওয়া লোকদের মাধ্যমেই তারা সংক্রমিত হয়েছেন।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী।
এই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, এক রোগী একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়ে তা গোপন করেই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। পরে কোভিড-১৯ রোগী সন্দেহ হলে ওই রোগীকে আরেক হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই মারা যান তিনি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক বলেন, “পরে তারা জানতে পারলাম ওই রোগী করোনাভাইরাস পজেটিভ ছিল।

“ওই বিষয়টি হাইড করার ফলে আমাদের পুরো ইউনিটটা কন্টামিনেটেড হয়ে গেল। রোগীরা তাদের হিস্ট্রি গোপন করছেন। জ্বর-গলাব্যথা, কাশি থাকলেও এসে বলছে, হার্টে সমস্যা। ভর্তির পর পরীক্ষা করে আমরা বুঝতে পারি, তার আসলে অন্য সমস্যা। কিন্তু এরই মধ্যে ক্ষতি না হওয়ার তা হয়ে গেল।”
এই ঘটনা ঘটেছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালেও। সেখানেও মিথ্যা তথ্য দেওয়া এক রোগীর অস্ত্রোচারের পর এখন ২৩ জন চিকিৎসকসহ ৪২ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ উন নবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত ওই রোগীর মিথ্যা তথ্যের কারণেই ডাক্তাররা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এখন সেটা একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে।
“আর আমরাই বা কী করব, একজন রোগীর ইমার্জেন্সি অপারেশনের দরকার হলে তো অপারেশন করতে হবে, না হলে রাস্তায় মারা যাবে।”

স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিও তাদের আক্রান্ত করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নার্স সুরক্ষা উপকরণ পাননি। এ অবস্থায় তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।
“আমরা নার্সরা আক্রান্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই আরও অনেকে আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আপনি ভেন্টিলেটর দিবেন, কিন্তু সেটা চালাবে কে? এজন্য নার্সদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
চিকিৎসকদের দেওয়া সুরক্ষা উপকরণের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বাইরের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে গাউন দিযেছে সেটা নন উভেন টিস্যু কাপড়ের। ওয়ানটাইম ইউজ এই গাউন লিকুইডকে প্রটেক্ট করতে পারে না।
“যথাযথ নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের মাস্ক দরকার। কিন্তু যেটা দিচ্ছে, সেটা দেখেই বোঝা যায় খারাপ মানের। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কমপক্ষে লেভেল থ্রি স্ট্যান্ডার্ডের পিপিই দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে লেভেল টু- স্ট্যান্ডার্ডের।”
“সমস্যা হচ্ছে, এগুলো পরে আমাদের মধ্যে একটা ভ্রান্ত নিরাপত্তাবোধ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আসলে তা আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না,” বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চিকিৎসক।

Post a Comment

0 Comments